Showing posts with label passion. Show all posts
Showing posts with label passion. Show all posts

Tuesday, April 2, 2019

হ্যালো লাইফ

সময় শুধু মাত্র বর্তমান,পরিবর্তনগুলো কেবল কিছু ডাকবাক্স,যাদের ডাকপিয়নেরা কাঁটার ঘূর্ণনের সাথে সাথে ঠিকানা বদলে বদলে নানারকমের চিঠি পাঠিয়ে যায়,কিছু চিঠি বয়ে আনে সুখ, কিছু চিঠি বয়ে আনে নতুন করে জেগে ওঠার জন্য উচ্ছাস,আবার কতকগুলো চিঠির খামে লেগে থাকে জীবনের অনেক চড়াই-উতরাইয়ের গল্প|শুধু বেছে নিতে হয় নিজের মতো খামে ভরা চিঠি, কারণ সব কিছুতে আমাকে একটাই জিনিস এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে,"পরিবর্তন"|এই একটা শব্দই বদলে দিয়েছে আমার জীবনের দর্শনের খোলা মাঠের আবহাওয়াকে, যেখানে ঝড়-ঝাপ্টা থেকে ছোট ছোট ঘাসফুলের মাথা দোলানোর সুর,সব কিছুই আমাকে প্রভাবিত করে আজকাল|

আজ এসব লেখার কারণ খুঁজতে গেলে,আমাকে ফিরে তাকাতে হয়,এখন যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আমি জীবন খুঁজে শ্লোগান ওড়াচ্ছি তার থেকে ঠিক চার বছর আগে মুম্বাইয়ের ক্যান্সার হসপিটালে|কালো পর্দায় ঘেরা, একটা ভিজিটিং রুমে আমার সাথে কেবল সময় গুনতো সামনের চেয়ারে বসে থাকা ডাক্তারবাবু, ওই ঘন্টা দুয়েকের কথাতেই যেন একটু একটু করে প্রাণ ফেরত দিতো আমার হৃদ্স্পন্দনে|যদিও দোষের কথা বলতে গেলে আমার নিজের উচ্ছশৃক্ষল লাইফস্টাইলটাই চোখের বারান্দায় বারবার ঘুরপাক খায়|সদ্য যৌবনের ঢেউয়ে ভাসতে থাকা পালতোলা নৌকোর মতোই আমিও ভেসেছিলাম সিগেরেট,আলকোহলের বানভাঙা হওয়ার গতির সাথে,নিজের গন্তব্যকে ভুলে গিয়ে শুধু ভেসে গিয়েছিলাম একটা বেয়াড়া ঢেউয়ের সাথে যেটা তখন হসপিটালের চরে এসে ভেঙেছিল,আর আমি মুখথুবড়ে পড়েছিলাম রক্ত বমির বালির পাঁচিলে|ছোট ছোট ভুলের দানাগুলো দেখি বিশাল ভুলের পাহাড় হয়ে মাথাচাড়া মুখ তুলেছে আমার লিভারের পাদদেশে|প্রতিবার চেকআপ করে বাড়ি ফিরে এসে শুধু একটাই প্রশ্ন তুলে রাখা থাকতো,"কেন"? আমার নিজের লাইফস্টাইলের জন্য বাড়ির লোক কেন ভোগ করবে, তখন ভেবেছিলাম এবার এটাকে এখানেই শেষ করা দরকার, এভাবে কেমোর যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে থাকার থেকে, পুরোপুরি ভাবে যন্ত্রণাকে বিদায় জানানো ভালো|

কিন্তু না, সেরকমটা হলো আর কোথায়|য্খন আমি দেখতাম আমার পড়ার বই,পাশেই পড়ে থাকা ডায়েরি পাতাতে যেখানে আমার সব ইচ্ছেদের বীজ বুনতাম একা একাই, কম্পিউটারে গুগল সার্চে হাজার রকমের ফিকির আমার জন্য এখনো অপেক্ষায় দিন গুনছে, তখনই হয়তো আমার কাছে আবার একটা নতুন করে শুরুর জন্য হাতছানি দিচ্ছিলো ওপারের সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা আজকের এই দিনগুলো|যদিও রাস্তা মোটেই সহজ ছিল না,সব রকমের খাবার ব্যতিরেকে কেবল মাত্র কিছু সেদ্ধ খাবারের মেনু তুলে রাখা থাকতো আমার জন্য,উচ্ছশৃঙ্খলতার সমস্ত কারণ গুলোকে আমি জানিয়েছিলাম বিদায়,ওদের জন্য আজও আমার ঘরের দরজায় লালাবাতি জ্বলে,কারণ আমি আজ ভালো আছি|

শারীরিক কষ্টের বাঁধন মাঝে মাঝে এতটাই দৃঢ় হয়ে যেত যে,কান্নার জন্যও মুখ থেকে কোনো আওয়াজ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে বেরত না সেই সময়,কিন্তু সব কিছুকে পেছনে ফেলে আমাকে যে এগিয়ে যেতে হবে সেটার প্রতিজ্ঞা আমি করেছিলাম নিজেকে|সময় শুধু বদলে গেছে তার সাথে মরেও গেছে আমার ভুলের জন্য গজিয়ে ওঠা একটা রোগের গাছ যেটাকে মারার জন্য কোনো বিষ দিতে হয়নি আমাকে, আমাকে শুধু দিতে হয়েছে নিজের মনকে আত্মশক্তির ভরসা|আমি ভরসা পেতাম শুধু একটা কথা ভেবেই, যে রক্ত যতদিন বয়েছে শরীরে,স্পন্দন যতদিন মিশে আছে সব ইচ্ছেদের কণাতে, ততদিন না হয় বাদ-ই  দিলাম ওই রোগের অতীতকে|আজ সেই নিজের শক্ত মনের শিকলের জোরেই নিজের পাঁজরে বেঁধে রাখতে পেরেছি আমার হাসি, আমার সুখ, আমার নতুন করে পাওয়া আজকের জীবনকে, তার সাথে নতুন করে জীবনে আসা প্রেমের আবেগ কেও|

আজকে যখন আমি পেছন ফিরে তাকাই, তখন দেখি আমার জীবনের ছায়াছবিতে ওই চারটা দৃশ্য কালো ঝিলমিলে পর্দাতে ঢাকা,তাই আজ আর ওই কালো পর্দাকে সরিয়ে দেখতেও যায় না সেইসব পর্বগুলোকে|আমি আবার হাসতে শিখেছি, আঙ্গুল চলছে শব্দদের সাজানোর খেলায়, শত খেয়াল আমাকে তাড়া দেয় তাদেরকে গল্পে প্রাণ দেওয়ার তাড়াতে, আর আমিও জীবনকে তাড়া দিতে থাকি তাদেরকে নতুন নতুন অনুভূতিতে দোলানোর তাড়নায় | যন্ত্রনা,ওটা না হয় কালো পর্দার পেছনেই ঢাকা থাক আরও কিছু বছরের জন্য, কারণ আমি যে চিঠিটা পেয়েছিলাম পরিবর্তনের ডাকবাক্স থেকে সেটাতে লেখাছিল,"জীবন শুধু একটা নাটকের মঞ্চ কাওকে মরতে হয় এই মঞ্চে তার চরিত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, আবার কেও বেঁচে থাকে নাটকের পরিচালক হয়ে,নতুন একটা নাটক লেখার মঞ্চ খুঁজে|"

তাই আমি নিজের চরিত্রকে বাঁচিয়ে রেখেছি আজ পরিচালকের কলম ধরে||

Tuesday, March 5, 2019

দোয়াতে-ISHQ

পাঁচ বছর ছিল বয়স যখন আমার ঠাকুর মশাইয়ের হাত ধরে হাতেখড়ি হয়েছিল|এখনো স্পষ্ট মনে আছে ভাঙা ভাঙা হাতে সাদা খড়ি লেগে থাকা আঙুলের জোরে আমি প্রথম লিখেছিলাম অ, আ, ই, ঈ, ক, খ, গ|পাশে দাঁড়িয়ে থেকে মা তখন খুশির হাসি ওড়াচ্ছিলো ঠাকুর ঘরের বাইরের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে এবং তার সাথে আমাকে উৎসাহ দিচ্ছিলো নিজের মতো কিছু শব্দকে লিখে পুরোহিতকে দেখাতে|ওই টুকু বয়সে মাথায় কিছুই আসেনি আমার, শুধু ভ্যাল-ভ্যাল করে তাকিয়ে ছিলাম ঠাকুর ঘরে বসে থাকা বাকি দাদা দিদিদের মুখের দিকে|যেন কিছু  উত্তর চাইছিলাম সবার থেকে,জীবনের প্রথম শব্দ আবিষ্কারের তাড়ায় |প্রথম যেদিন নিজের মতো কিছু লিখতে পারলাম সেদিন ছিল ইস্কুলের ক্লাস ওয়ানের ছাত্র রূপে,শেষের দিকে বসে শ্লেট পেন্সিল হাতে|মাস্টারমশাই পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলো সেদিন নিজের মতো কিছু লিখে দেখানোর জন্য, শুধু বাধা বলতে ছিল হাতে গোনা পনেরোটা মিনিট,যা হোক করে লিখেছিলাম,স্কুলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটা ঘুগনীর দোকানির দিকে তাকিয়ে,তার ঘুগনীর বাটিতে কি কি পেতাম সেগুলো নিয়েই|সত্যি বলতে সেদিন মাস্টারমশাই খুব হেসেছিলেন আমার লেখার বিষয়বস্তু দেখে কিন্তু পারিপার্শিক ঘটনাকে লেখার বিষয়বস্তু হিসেবে উপস্থাপনা দেখে তিনি পিঠ চাপড়ে বাহবাও দিয়েছিলেন|

সেদিন ওই একটা ছোট্ট একপাতার লেখার মধ্যে দিয়ে অনেক কিছুই বুঝতে শিখেছিলাম, বাড়ি ফিরে এসেই মা-কে প্রশ্ন করেছিলাম,"" মা লেখার জন্য ভালো ভালো বিষয় কিভাবে আমি চিনতে পারবো ?মা শুধু একটা কথায় বলেছিলো,"" লেখাটা শুধু তোমার, তোমার নিজের, তোমার ইচ্ছে প্রকাশের আরেকটা রূপ, তুমি তোমার লেখাতে স্বাধীন|"" কথাগুলো বুঝতে একটু দেরি হয়েছিল আমার |


প্রতিদিন খেলার শেষে এসে সন্ধ্যে বেলায় দুধ মুড়ির সাথে সাথে কত গল্পই না হতো দাদা দিদিদের সাথে | আমি শুধু গল্পের কথার শেষে একটা করে প্রশ্ন নিয়ে পড়তে বসতাম | যার উত্তর গুলো নিজের মতো মনে রেখে যা পারতাম লিখে যেতাম | প্রথম যখন আমার সাথে কালী পেনের দেখা হয়, সেদিন ছিল আমার ক্লাস টু-এর ফাইন্যাল পরীক্ষার শেষ দিন|বাড়ি এসে দেখি আমার বই ,খাতার মাঝে একটা দোয়াত সাথে একটা স্বার্ণালী টুপির কালী পেন|ওটাই ছিল আমার  প্রথম কোনো ভালো লাগার জিনিস যেটা না চাইতেই পেয়েছিলাম|সেদিনের লেখাটাও ছিল অবশ্য আমার ওই সুন্দর পেনটাকে নিয়ে|প্রতিদিন লেখার সাথে সাথে কখন যে নিজের মধ্যে একটা নতুন নতুন জিনিস কে নিয়ে লেখার তাগিদ বাড়িয়ে ফেলেছিলাম, সেটা নিজের অন্তরালে নিজেই টের পাইনি|ক্লাস ফাইভ হবে তখন যখন ইস্কুলের ম্যাগাজিন এর জন্য আমি আমার একটা প্রবন্ধকে জমা করেছিলাম, লেখাটা হয়তো ওতো বড়ো মাপের ছিল না , কিন্তু ওটাই ছিল আমার  প্রথম কোনো ভাবনা যা কিনা মুখ দেখেছিলো বাইরের পাঠকদের|


একটা আনন্দ,একটা নতুন কিছু ভাবনাকে প্রকাশ করার যে খিদে আমার মধ্যে দানা বেঁধেছিলো তার নেপথ্যে ছিল মায়ের বলা সেদিনের কথা গুলো|যেগুলোর আক্ষরিক অর্থ আমায় আস্তে আস্তে সময় ও সময়ের সাথে সাথে বয়ে যাওয়া সমস্ত শব্দরা শেখাতে শুরু করেছিল|তখন মনে হতো,আমি হলাম একজন কারিগর যে তার কুঠিতে বসে কিছু শব্দদের সাজায় ,তাদের উড়তে শেখায়, আবার কখনো কখনো উচ্চ-বাচ্চ করলে তাদের টুটি টিপে মেরেও ফেলে|একটু যখন পরিণত হলাম আমার লেখার প্রতি প্রেম যেমন বাড়লো, তেমনি বাড়লো কিছু রাগের আত্মপ্রকাশ,যেগুলো আমাকে অনেক সময় আমার মুখে কাদার  স্বাদও  দিয়েছিলো |


শুধু একটা কথা, এখনো আমাকে লেখায়, একটা কথায়  আমাকে ভাবতে বাধ্য করে,-----

---""
লেখাটা শুধু তোমার, তোমার নিজের, তোমার ইচ্ছে প্রকাশের আরেকটা রূপ, তুমি তোমার লেখাতে স্বাধীন |""